সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা এলাকায় নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা প্রদানের অভিযোগে ইয়াসিন আলী ওরফে পলাশ নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে নলতা মানব স্বপ্ন হেলথ কেয়ার সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাইনুল ইসলাম খান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ইয়াসিন আলী বৈধ চিকিৎসক না হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। অভিযানের সময় তিনি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ সনদ, নিবন্ধন কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নলতা ডায়াবেটিক হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের নাম ও পদবি ব্যবহার করে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দিতেন। এছাড়া বিভিন্ন উপায়ে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত করে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তার ভুল চিকিৎসার কারণে একাধিক রোগী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।
অভিযানকালে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। জনস্বার্থে স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও প্রতারণা রোধে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী।