আবারও চাঁদাবাজির অভিযোগে পুরাতন সাতক্ষীরার ঘোষপাড়া গ্রামের বাবলু আল আলমের ছেলে এবং সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান সাতক্ষীরা’ নামক সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রাজীব হাসান রিমুর (৩৩) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি, হুমকি এবং নিজের পত্রিকায় মনগড়া মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে ব্যক্তিগতভাবে সম্মানহানি করার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছেন ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম।
সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলামের দায়ের করা মামলার অভিযোগ বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়- হুমকি- ভয়ভীতি এবং চাঁদাদাবী করায় অতীষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম এ মামলা দায়ের করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর ওয়াপদা রেস্টহাউজের সামনে রাজীব হাসান রিমুর সাথে তার প্রথম দেখা হয়। সেদিন ওয়াপদা রেস্টহাউজের সামনে তাকে আটকে রিমু ৫০ হাজার টাকা দাবি করে বলে ‘টাকা না দিলে পত্রিকায় এমন সংবাদ ছাপাবো, যাতে সমাজে মুখ দেখাতে পারবি না।’ এমন হুমকিতে মান-সম্মান বাঁচাতে ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বাধ্য হয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দেন।
তিনি উল্লেখ করেন- ১৫ হাজার টাকা দেয়া মাত্রই আসামী আরও ‘চাপ দিয়ে’ অবশিষ্ট ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এরপর থেকেই রাজীব হাসান রিমু নিয়মিত ফোন করে, রাস্তা আটকিয়ে বা পরিচিত লোক পাঠিয়ে বারবার ৩৫ হাজার টাকা দাবী করে আসছেন। পরে ২০ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে
দেখা হলে রিমু বলে- তোকে অনেকবার বলেছি, বাকি ৩৫ হাজার টাকা দে। টাকা না দিলে ‘বর্তমান সাতক্ষীরা’–য় তোর নামে এমন প্রতিবেদন ছাপাব, তুই সমাজে চলতে পারবি না।’ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম তখনও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু রিমু্ও ছাড় দেয়নি- ২৩ নভেম্বর তার নিজের সম্পাদিত বর্তমান সাতক্ষীরা’র প্রথম পাতায় ‘সফি ও রবিউলের দৌড়ঝাপ শুরু’ এবং ‘ডিস লাইনের ব্যবসার আড়ালে চলে রবিউলের অবৈধ কারবার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে।
মামলার আরজিতে ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম দাবি করেন- সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মান-সম্মান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর মুহূর্তেই তিনি স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান এবং থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যেতে বলেন।
বাদী ছাড়াও এ মামলায় আরো ৫ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- ইটাগাছা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত. গফুর গাজীর ছেলে মো, আজম (৩২), মৃত. বাবর আলী গাজীর ছেলে মো. সাহেব আলী বাবু (২৯), মৃত. সামাদ গাজীর ছেলে মো. আরিফ গাজী (৩৫), কামালনগর এলাকার মৃত. বাবর আলী গাজীর ছেলে আব্দুস সাত্তার (৪৫) ও ইটাগাছা মানিকতলা এলাকার মৃ. ইব্রাহিম ডাক্তারের ছেলে ফজর আলী গাজী (২৭)।
বিজ্ঞ আদালতে ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম ৪ নভেম্বর হাজির হয়ে জবানবন্দি দিলে আমলী আদালত (১) এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার জবানবন্দি পর্যালোচনা করে ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআই সাতক্ষীরা- কে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের কপি ইতোমধ্যে পিবিআই কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে অনেকদিন ধরে টাকা দিতে চাপ দিচ্ছিল। বলত- টাকা না দিলে সংবাদ ছাপিয়ে তোর ব্যবসা শেষ করে দেব।
মানসম্মান বাঁচাতে ১৫ হাজার টাকাও দিয়েছিলাম। কিন্তু ভুল তথ্য ছড়ানোয় চুপ থাকতে পারিনি। সাংবাদিকতার নামে হলুদ সাংবাদিকতায় তার চাঁদাবাজী এভাবে চলতেই থাকবে, এজন্য মামলা করেছি।
এ বিষয়ে রাজীব হাসান রিমুর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে জেলার একাধিক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, যদি অভিযোগ সত্য হয় তবে এটি সাংবাদিক সমাজের জন্য লজ্জাজনক। তাদের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। রাজীব হাসান রিমু দোষী হলে এসব সিনিয়র সাংবাদিকরা তার শাস্তির দাবী জানান।
স্থানীয় আইনজীবীরা বলেন, ৩৮৫-৩৮৭ ধারাগুলো অত্যন্ত গুরুতর। কারণ এগুলোতে ভয়ভীতি, হুমকি এবং চাঁদা আদায়ের বিষয় জড়িত। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগ, সাংবাদিকতার অপব্যবহার, মানহানিকর প্রতিবেদন এবং সামাজিক প্রভাব- সবকিছু মিলিয়ে জেলা শহরে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

